উপজেলা

চুয়েটেও চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি

অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (চুয়েট) ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের ঘোষণা অনুযায়ী দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। হচ্ছে না কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা। ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো না বললেই চলে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকায় বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার কোনো বিচার না হওয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিপ্লোমাধারীদের প্রতিনিয়ত হুমকির প্রতিবাদে আজ চতুর্থ দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন তাঁরা।

জনদুর্ভোগ এড়াতে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে দাবি না মানলে আবারও বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচি দেবেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো বিচার না পাওয়া ও আমাদের দাবির ব্যাপারে সরকারের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় আমরা শাটডাউন কর্মসূচি চলমান রেখেছি।

সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমাতে মাঠের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করে আপাতত এ কর্মসূচি পালন করছি। তবে আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা আবারও বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করব।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। এটি দেশের জন্যও ভালো নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সমাধান করেন।’

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া—এই তিন দফা দাবিতে গত বুধবার পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার তাঁদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হলো ‘লংমার্চ টু ঢাকা’। এর অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগের মূল সড়কে অবস্থান নেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় শাহবাগ ও আশপাশের সড়ক।

বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা যমুনা অভিমুখে রওনা দেন। তাঁরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় পেরোনোর চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিপেটা করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, পুলিশের হামলায় ৫০ থেকে ৬০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। এ ঘটনায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

editor

পরিচয় নিউজের একজন নিয়মিত লেখক ও সাংবাদিক।

এই লেখকের সব লেখা দেখুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *