চট্টগ্রাম

বায়েজিদে ১১ টুকরো করে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকার বাসায় স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ১১ টুকরো করে হত্যা করার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়া সে ঘাতক স্বামী মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে র‌্যাবের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক এম আর এম মোজাফ্ফর হোসেন সুমনকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি দল চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীর খুনি এবং হত্যার পর ঠান্ডা মাথায় লাশ ১১ টুকরো করে নিজ ঘরে ফেলে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক স্বামীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ব্যাপারে (শনিবার) সকালে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন এলাকার পাহাড়িকা হাউজিং সোসাইটির এফজে টাওয়ারের ১০তলায় ১১ টুকরা করে হত্যা করা হয় ফাতেমা বেগমকে।

এর পর থেকে তাঁর স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ বলছে, ওই নারীকে হত্যায় ছুরি ও চাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে টুকরা টুকরা করা হয়েছে। হাড় থেকে মাংস কেটে ফেলা হয়েছে। ১১টি টুকরা ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান খুনি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় দেড় মাস আগে এ জেড টাওয়ারের দশম তলায় বাসা ভাড়া নেয় সুমন ও ফাতেমা। তাদের সিফাত নামে আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ভবনটির দারোয়ানের ভাষ্যমতে ১০ম তলার বাসা থেকে অস্বাভাবিক শব্দ এবং পানির পাইপে কিছু পড়ার শব্দে সেখানে ছুটে যান বিল্ডিংয়ের দারোয়ান মশিউর রহমান।

দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে খুলে দেয় গৃহকর্তা মো. সুমন। ভেতরে প্রবেশ করতেই বীভৎস দৃশ্য চোখে পড়ে দারোয়ানের। টয়লেটের কমোডে পড়ে আছে মাংসের টুকরো। বঙ্খাট সরিয়ে দেখা যায়, দুটি কাটা পা! আতঙ্কে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দ্রুত নিচে নেমে খবর দেন এলাকাবাসী ও পুলিশকে।

এরমধ্যেই গ্রিল কেটে দশতলা থেকে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যায় স্বামী। নৃশংস এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দেখা দেয় তীব্র চাঞ্চল্য। পুলিশ এসে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে ৩২ বছর বয়সি ফাতেমা বেগমের ১১ টুকরো করা লাশ।

শেয়ার করুন

editor

পরিচয় নিউজের একজন নিয়মিত লেখক ও সাংবাদিক।

এই লেখকের সব লেখা দেখুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *