দেশজুড়ে

বহুতল ভবন থেকে পড়ে বাবার মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা পর ছেলের জন্ম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরলাঙ্গলিয়া গ্রামে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি রাশেদ (২৪) নতুন পুত্রসন্তানের জন্মের অপেক্ষায় ছিলেন।

কিন্তু ছেলের জন্ম হওয়ার মাত্র ১৮ ঘণ্টা আগে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন থেকে পড়ে অকালমৃত্যু সব স্বপ্নই ভঙ্গ হয়ে গেল।

গত ১৮ জুলাই শুক্রবার দুপুরে ৯তলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা রাশেদ ও আরও দুই নির্মাণশ্রমিক।

এ ঘটনায় যখন রাশেদের পরিবারে যখন শোকের মাতম চলছিল তখনই নিহত রাশেদের স্ত্রীর পলি আকতারের কোলে আগমন ঘটে নতুন শিশুর।

বাবার মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টার মাথায় জন্ম নিয়ে পরিবারকে হতবিহ্বল করে দিয়েছে এ নবজাতক। অসুস্থ বাবা কৃষক আবুল কালাম, মা নিলুফা আকতার এবং আরও এক ভাই ও দুই বোন ও স্ত্রী-তিন বছরের একটি মেয়ে নিয়ে রাশেদের সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম রাশেদের মৃত্যুসংবাদে যেন অথৈ সাগরে পরেছেন তারা।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে স্বামীর মৃত্যুর খবরে বাড়িতে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন পলি। অপেক্ষা করছিলেন স্বামীর মরদেহের জন্য।

রাশেদের মরদেহ ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এর মধ্যেই শনিবার (১৯ জুলাই) ভোরে প্রসবব্যথা তীব্র হয়। পরে ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বাড়িতে এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন পলি।

যদিও চিকিৎসক পলিকে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছিলেন ২২ জুলাই, তবে কাকতালীয়ভাবে রাশেদের মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা পর ছেলেটির জন্ম হয়ে।

একইসঙ্গে বাবার পৃথিবী থেকে বিদায় এবং সন্তানের আগমনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেছেন শোকাহত পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশেদ দীর্ঘদিন ছেলে হলে আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়ার কথা ভাবতেন।

ছোট মেয়ে চার বছর বয়সী হলেও বাবার হারানোর বোঝা তার বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। ভাঙা হৃদয় নিয়ে স্ত্রীর মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন—“এই দুই সন্তানকে কীভাবে বড় করব?”

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, “নতুন প্রাণের আগমন আর সেই প্রাণদাতার বিদায়ের এমন মিশেল খুব কমই দেখা যায়। এই বেদনার ভাষা নেই।”

চরলাঙ্গলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাসার জানান, “রাশেদ ছিল পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে। তার অকাল মৃত্যু শুধু পরিবার নয়, পুরো গ্রামকে শোকাহত করেছে। আমরা পরিবারটির পাশে আছি এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নিহত শ্রমিক পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি পরিবার ও সমাজকে জীবন ও মৃত্যুর বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও জোরদার করছে।

শেয়ার করুন

editor

পরিচয় নিউজের একজন নিয়মিত লেখক ও সাংবাদিক।

এই লেখকের সব লেখা দেখুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *